Namer Ortho Bangla
নামাজ 30 November 2025

এশার নামাজ ১৫ রাকাত কি কি? সঠিক নিয়ম ও রাকাত সংখ্যা

এশার নামাজ মুসলিমদের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে অন্যতম। এটি দিনের শেষ ফরজ নামাজ। এশার নামাজ কত রাকাত এবং এর নিয়ম কি, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে। কেউ কেউ মনে করেন এশার নামাজ ১৫ রাকাত, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এর রাকাত সংখ্যা ভিন্ন। এই আর্টিকেলে আমরা এশার নামাজের সঠিক রাকাত সংখ্যা, নিয়ম এবং এই সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।

এশার নামাজ কত রাকাত?

এশার নামাজ মূলত ১১ রাকাত। এর মধ্যে ৪ রাকাত ফরজ, ২ রাকাত সুন্নাত, ২ রাকাত নফল এবং ৩ রাকাত বিতর ওয়াজিব। নিচে রাকাতগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:

  • ফরজ: ৪ রাকাত
  • সুন্নত: ২ রাকাত (ফরজের পরে)
  • নফল: ২ রাকাত
  • বিতর ওয়াজিব: ৩ রাকাত

তাহলে, সর্বমোট রাকাত সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৪ + ২ + ২ + ৩ = ১১ রাকাত।

এশার নামাজের নিয়ম

এশার নামাজ অন্যান্য নামাজের মতোই আদায় করতে হয়। নিচে এর নিয়ম ধাপে ধাপে বর্ণনা করা হলো:

এশার নামাজের ফরজ ৪ রাকাত আদায়ের নিয়ম:

  1. নিয়ত করা: প্রথমে কেবলামুখী হয়ে দাঁড়ান এবং মনে মনে এশার ৪ রাকাত ফরজ নামাজ আদায়ের নিয়ত করুন। আরবিতে নিয়ত করতে পারেন: “নাওয়াইতু আন্‌ উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা আরবা’আ রাক’আতি সালাতিল ‘ইশারাই ফারদুল্লাহি তা’আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।”
  2. তাকবীরে তাহরিমা: এরপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত দুটো কান পর্যন্ত উঠিয়ে বাঁধুন।
  3. সানা পড়া: হাত বাঁধা অবস্থায় ছানা পড়ুন: “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তা’আলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।”
  4. সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়া: এরপর সূরা ফাতিহা পড়ুন এবং অন্য যেকোনো একটি সূরা কুরআনের থেকে তিলাওয়াত করুন।
  5. রুকু করা: ‘আল্লাহু আকবার’ বলে রুকুতে যান এবং রুকুতে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম’ পড়ুন।
  6. সিজদা করা: রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সিজদাতে যান। সিজদাতে কপাল ও নাক মাটিতে ঠেকিয়ে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’ পড়ুন।
  7. দ্বিতীয় সিজদা: প্রথম সিজদা থেকে উঠে বসে আবার সিজদাতে যান এবং একই দোয়া পড়ুন।
  8. দ্বিতীয় রাকাত: দ্বিতীয় রাকাতের জন্য উঠে দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ুন এবং প্রথম রাকাতের মতো রুকু ও সিজদা করে তাশাহুদ পড়ুন।
  9. তাশাহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়া: তাশাহুদে বসুন এবং তাশাহুদ (আত্তাহিয়াতু), দরুদ শরীফ ও দোয়া মাসুরা পড়ুন।
  10. সালাম ফেরানো: এরপর ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলে প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করুন।

এশার নামাজের সুন্নত ২ রাকাত আদায়ের নিয়ম:

ফরজ নামাজের পরে ২ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করতে হয়। এই নামাজটিও ফরজ নামাজের মতোই, তবে इसमें শুধুমাত্র সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পড়লেই হয়। তাশাহুদের পরে দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়তে হয় এবং সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়।

এশার নামাজের নফল ২ রাকাত আদায়ের নিয়ম:

সুন্নত নামাজের পরে ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করা উত্তম। নফল নামাজ সাধারণ নামাজের মতোই, এবং এটি আদায় করা ঐচ্ছিক।

এশার নামাজের বিতর ৩ রাকাত আদায়ের নিয়ম:

বিতর নামাজ এশার নামাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ওয়াজিব। বিতর নামাজ আদায়ের নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:

  1. নিয়ত করা: বিতর নামাজ পড়ার জন্য নিয়ত করুন।
  2. প্রথম রাকাত: সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ুন।
  3. দ্বিতীয় রাকাত: সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ুন এবং তাশাহুদ পড়ুন।
  4. তৃতীয় রাকাত: তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা পড়ার পরে রুকুতে যাওয়ার আগে তাকবীরে কুনুত বলতে হয়। অর্থাৎ, ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত তুলে কুনুতের দোয়া পড়তে হয়।
  5. দোয়া কুনুত: কুনুতের দোয়াটি হলো: “আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ওয়া নাস্তাগফিরুকা, ওয়া নু’মিনু বিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা, ওয়া নুছনী আলাইকাল খাইর, নাশকুরুকা ওয়া লা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাউ ওয়া নাতরুকু মাই ইয়াফজুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া লাকা নুসাল্লী ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাস’আ ওয়া নাহফিদু, নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখশা আযাবাকা, ইন্না আযাবাকা বিল কুফ্ফারি মুলহিক।”
  6. রুকু ও সিজদা: এরপর রুকু ও সিজদা করে सामान्य নামাজের মতো শেষ করুন।

এশার নামাজে কুনুত পড়ার নিয়ম

বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে রুকুর আগে কুনুতের দোয়া পড়া ওয়াজিব। কুনুতের দোয়া না জানলে অন্য কোনো দোয়া বা সূরা পড়া যায়, অথবা তিনবার ‘আল্লাহুম্মাগফিরলী’ বলা যায়। তবে কুনুতের দোয়া মুখস্থ করা উত্তম।

এশার নামাজের ফজিলত

এশার নামাজের অনেক ফজিলত রয়েছে। কিছু ফজিলত নিচে উল্লেখ করা হলো:

  • গুনাহ মাফ: নিয়মিত এশার নামাজ আদায় করলে আল্লাহ বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন।
  • জান্নাত লাভ: যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামাতের সাথে আদায় করে, সে যেন অর্ধেক রাত ইবাদত করলো।
  • নিশ্চিন্ত ঘুম: এশার নামাজ পড়ে ঘুমালে শয়তানের প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায়।
  • আল্লাহর সন্তুষ্টি: এশার নামাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের একটি মাধ্যম।

শবে কদরের রাতে এশার নামাজ

শবে কদরের রাতে এশার নামাজের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এই রাতে অনেকে নফল নামাজ আদায় করে থাকেন। শবে কদরের রাতে এশার নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা এবং নফল ইবাদত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

এশার নামাজ বিষয়ক কিছু প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: এশার নামাজে কত রাকাত ফরজ?
উত্তর: ৪ রাকাত।

প্রশ্ন: বিতর নামাজ কি?
উত্তর: বিতর নামাজ এশার নামাজের সাথে আদায় করা ৩ রাকাতের একটি বিশেষ নামাজ, যা ওয়াজিব।

প্রশ্ন: কুনুতের দোয়া কখন পড়তে হয়?
উত্তর: বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে রুকুর আগে কুনুতের দোয়া পড়তে হয়।

প্রশ্ন: এশার নামাজে ভুলের জন্য কি সিজদা সাহু দিতে হয়?
উত্তর: যদি নামাজে কোনো ভুল হয়, তবে সিজদা সাহু দেওয়া ওয়াজিব।

উপসংহার

এশার নামাজ মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। এর সঠিক নিয়ম ও রাকাত সংখ্যা জেনে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য। আশা করি, এই আর্টিকেলটি আপনাকে এশার নামাজের রাকাত সংখ্যা এবং নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সাহায্য করেছে। নিয়মিত নামাজ আদায় করুন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করুন।