Namer Ortho Bangla
নামাজ 30 November 2025

বিতর নামাজ কত রাকাত ও বিতর নামাজের সঠিক নিয়ম – বিস্তারিত জেনেনিন!

বিতর নামাজ এশার নামাজের একটি অংশ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। বিতর শব্দের অর্থ হলো বেজোড়। এটি ওয়াজিব নামাজ। তাই এর গুরুত্ব অনেক বেশি। অনেকেই বিতর নামাজ কত রাকাত এবং এর নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান। আজকের আর্টিকেলে আমরা বিতর নামাজ কত রাকাত, বিতর নামাজের নিয়ম, বিতর নামাজ পড়ার দোয়া এবং বিতর নামাজ সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

বিতর নামাজ কত রাকাত?

বিতর নামাজ ৩ রাকাত। এই নামাজ এশার ফরজ ও সুন্নতের পর আদায় করতে হয়। বিতর নামাজ পড়ার নিয়ম অন্যান্য নামাজের থেকে কিছুটা ভিন্ন। তাই এটি মনোযোগ দিয়ে পড়া উচিত। বিতর নামাজে কুনুত পড়া ওয়াজিব।

বিতর নামাজের নিয়ম

বিতর নামাজ পড়ার নিয়ম নিচে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো:

প্রথম রাকাত:

  • প্রথমে দাঁড়িয়ে নিয়ত করতে হবে। বিতর নামাজের নিয়ত হলো: “নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা’আলা সালাতাল বিতরি সালাসা রাক’আতাইন মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।”
  • এরপর তাকবীরে তাহরিমা বলে হাত বাঁধতে হবে। অর্থাৎ, আল্লাহু আকবার বলে দুই হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে, হাত বাঁধতে হবে।
  • তারপর ছানা পড়তে হবে: “সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তায়ালা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।”
  • এরপর সূরা ফাতিহা পড়তে হবে।
  • সূরা ফাতিহার সাথে অন্য যেকোনো একটি সূরা মিলিয়ে পড়তে হবে।
  • তারপর রুকুতে যেতে হবে এবং রুকুতে তাসবিহ পড়তে হবে: “সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম।”
  • রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে।
  • এরপর সিজদাহ করতে হবে এবং সিজদাহতে তাসবিহ পড়তে হবে: “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা।”

দ্বিতীয় রাকাত:

  • দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে।
  • সূরা ফাতিহার সাথে অন্য যেকোনো একটি সূরা মিলিয়ে পড়তে হবে।
  • তারপর রুকুতে যেতে হবে এবং রুকুতে তাসবিহ পড়তে হবে: “সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম।”
  • রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে।
  • এরপর সিজদাহ করতে হবে এবং সিজদাহতে তাসবিহ পড়তে হবে: “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা।”
  • সিজদাহ থেকে উঠে বসতে হবে এবং তাশাহুদ পড়তে হবে: “আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াত তাইয়্যিবাতু আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবিয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।”

তৃতীয় রাকাত:

  • দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে।
  • সূরা ফাতিহার সাথে অন্য যেকোনো একটি সূরা মিলিয়ে পড়তে হবে।
  • এরপর কুনুত পড়তে হবে।
  • কুনুত দোয়া নিচে দেওয়া হলো:

বিতর নামাজের কুনুত

বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে কুনুত পড়া ওয়াজিব। কুনুত দোয়াটি নিচে উল্লেখ করা হলো:

আরবি:

اللَّهُمَّ إنا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِي عَلَيْكَ الْخَيْرَ كُلَّهُ نَشْكُرُكَ وَلا نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ وَإِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ نَرْجُو رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ

বাংলা উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা ওয়া নাসতাগফিরুকা, ওয়া নু’মিনু বিকা ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইকা ওয়া নুছনী আলাইকাল খাইরা কুল্লুহু, নাশ কুরুকা ওয়া লা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাউ ওয়া নাতরুকু মাঁই ইয়াফজুরুকা। আল্লাহুম্মা ইয়্যাকানা’বুদু ওয়া লাকানুসাল্লী ওয়া নাসজুদু ওয়া ইলাইকা নাস’আ ওয়া নাহফিদু, নারজু রাহমাতাকা ওয়া নাখশা আজাবাকা ইন্না আজাবাকা বিল কুফ্ফারি মুলহিক্।

অর্থ:

হে আল্লাহ! আমরা তোমার সাহায্য চাই, তোমার কাছে ক্ষমা চাই, তোমার প্রতি ঈমান রাখি, তোমার উপর ভরসা করি এবং তোমার গুণকীর্তন করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞতা জানাই, অকৃতজ্ঞ হই না। আমরা পরিত্যাগ করি ওই ব্যক্তিকে যে তোমার অবাধ্য হয়। হে আল্লাহ! আমরা তোমারই ইবাদত করি, তোমার জন্য নামাজ পড়ি এবং তোমাকেই সিজদা করি। আমরা তোমার দিকেই ধাবিত হই এবং তোমার সন্তুষ্টির জন্য চেষ্টা করি। আমরা তোমার রহমতের আশা করি এবং তোমার আজাবকে ভয় করি। নিশ্চয়ই তোমার আজাব কাফেরদের উপর আপতিত হবে।

  • কুনুত পড়া শেষ হলে রুকুতে যেতে হবে এবং রুকুতে তাসবিহ পড়তে হবে: “সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম।”
  • রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে।
  • এরপর সিজদাহ করতে হবে এবং সিজদাহতে তাসবিহ পড়তে হবে: “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা।”
  • সিজদাহ থেকে উঠে বসতে হবে এবং তাশাহুদ, দুরুদ শরীফ ও দোয়া মাসুরা পড়তে হবে।
  • দুরুদ শরীফ: “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা সাল্লাইতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিঁ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাকতা আলা ইব্রাহীমা ওয়া আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।”
  • দোয়া মাসুরা: “আল্লাহুম্মা ইন্নি যালামতু নাফসি জুলমান কাসিরাওঁ ওয়া লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলি মাগফিরাতাম মিন ইন্দিকা ওয়ার হামনি ইন্নাকা আন্তাল গাফুরুর রাহিম।”
  • এরপর সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে। প্রথমে ডানে এবং পরে বামে সালাম ফেরাতে হবে।

বিতর নামাজের ফজিলত

বিতর নামাজের ফজিলত অনেক। নিচে কয়েকটি ফজিলত উল্লেখ করা হলো:

  • এটি ওয়াজিব নামাজ এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়।
  • এই নামাজ নিয়মিত আদায় করলে আল্লাহ বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হন।
  • রাসূলুল্লাহ (সা.) বিতর নামাজকে খুব গুরুত্ব দিতেন এবং কখনো ছাড়তেন না।
  • এই নামাজ আদায় করার মাধ্যমে রাতে তাহাজ্জুদের সাওয়াব পাওয়া যায়।
  • বিতর নামাজ দোয়া কবুলের অন্যতম মাধ্যম।

বিতর নামাজ কখন পড়তে হয়?

বিতর নামাজ এশার নামাজের পর থেকে শুরু করে ফজরের আগ পর্যন্ত পড়া যায়। তবে উত্তম হলো এশার নামাজের পরপরই বিতর আদায় করা। যদি রাতের শেষভাগে ঘুম থেকে ওঠার সম্ভাবনা থাকে, তবে শেষ রাতে আদায় করা ভালো।

কুনুত দোয়া মুখস্ত না থাকলে করণীয়

যদি কারো কুনুত দোয়া মুখস্ত না থাকে, তবে সে যেন অন্য কোনো দোয়া পড়ে অথবা তিনবার ‘ইয়া রাব্বি’ বলে। কুনুত দোয়া মুখস্ত করার চেষ্টা করা উচিত, তবে যদি তাৎক্ষণিকভাবে মুখস্ত না থাকে, তবে বিকল্প হিসেবে অন্য দোয়া পড়া বা ‘ইয়া রাব্বি’ বলা যেতে পারে।

বিতর নামাজে সূরাmelan নির্বাচন

বিতর নামাজে সূরা নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সাধারণত প্রথম রাকাতে সূরা আলা, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কাফিরুন এবং তৃতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়া উত্তম। এছাড়া অন্য যেকোনো সূরা দিয়েও নামাজ আদায় করা যায়।

মহিলাদের বিতর নামাজ পড়ার নিয়ম

মহিলাদের বিতর নামাজ পড়ার নিয়ম পুরুষের মতোই। তবে মহিলারা জামাতে নামাজ পড়ার পরিবর্তে একাকী নামাজ পড়বেন এবং তাদের আওয়াজ নিচু রাখবেন। এছাড়া অন্যান্য নিয়মাবলী একই থাকবে।

শেষকথা

বিতর নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। আশা করি, এই আর্টিকেলের মাধ্যমে বিতর নামাজ কত রাকাত ও বিতর নামাজের নিয়ম সম্পর্কে আপনারা বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। নিয়মিত বিতর নামাজ আদায় করে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করুন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।